সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ফেসওয়াশ-এর পাশাপাশি টোনার ও সমান ভাবে প্রয়োজনীয়। তবে, বাজার চলতি টোনার গুলোতে প্রায়শই কৃত্রিম রাসায়নিক এবং অ্যালকোহল থাকে, যা ত্বককে শুষ্ক ও রুক্ষ করে তুলতে পারে। এই সমস্যার একটি সহজ ও নিরাপদ সমাধান হলো ঘরে তৈরি টোনার। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি টোনার ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাছাড়া, এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। নিয়মিত টোনারের ব্যবহার ত্বকের ক্লান্তি দূর করে এবং ত্বককে নরম, সতেজ ও উজ্জ্বল করে তোলে। আসুন জেনে নিই কীভাবে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে সহজে একটি টোনার তৈরি করা যায়।
টোনার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা :
স্কিন কেয়ার রুটিন-এ টোনারের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর ত্বকে থেকে যাওয়া অবশিষ্ট ময়লা দূর করতে ও ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করতে টোনার কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। টোনার ত্বকের লোমকূপ কে সংকুচিত করে, যা অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ কমায় এবং ব্রণ ও ফুসকুড়ি প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি ত্বককে আর্দ্রতা প্রদান করে ও ত্বকের pH ভারসাম্য বজায় রাখে, যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে আরও উজ্জ্বল সতেজ ও স্বাস্থ্যকর।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
- ২ টেবিল চামচ গ্রিন টি অথবা ২ টি গ্রিন টি ব্যাগ
- ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল
- ১ টি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল
১. গ্রিন টি-এর উপকারিতা :
গ্রিন টিতে উপস্থিত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করে এবং ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গ্রিন টি ত্বক কে হাইড্রেটেড রাখে, যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে সতেজ ও প্রাণবন্ত।
২. অ্যালোভেরা জেল-এর উপকারিতা :
অ্যালোভেরা জেল ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বক কে নরম মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ব্রণ ও ত্বকের লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, অ্যালোভেরাতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বলিরেখা কম করে ত্বক কে টানটান করে তুলতে সহায়তা করে।
৩. ভিটামিন-ই এর উপকারিতা :
ভিটামিন-ই একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকের কোষকে পুষ্টি জোগায়, ত্বক কে আর্দ্র রাখে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কিন ব্যারিয়ার মেরামত করতে সাহায্য করে। ভিটামিন-ই এর ব্যবহারে ত্বকের রুক্ষতা, শুষ্কতা ও খসখসে ভাব কমে যায়। ভিটামিন-ই ত্বকে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, ফলে বলিরেখা কম হয় ও ত্বক আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখায়।
গ্রিন টি টোনার তৈরির পদ্ধতি :
২ টেবিল চামচ গ্রিন টি অথবা ২ টি গ্রিন টি ব্যাগ একটি পাত্রে নিয়ে তাতে ২ কাপ ফুটন্ত গরম জল ঢেলে ঢাকা দিয়ে প্রায় ৩০-৪০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঢাকনা সরিয়ে গ্রিন টি ছেঁকে আলাদা করে ফেলুন। এবার তৈরি করা গ্রিন টি তে ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল ও ১ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল ফুটো করে তার ভেতরের তেল দিয়ে দিন। এবার জিনিসগুলো গ্রিন টি এর সাথে ভালো মতো মিশিয়ে নিন। মিশে গেলে একটি পরিষ্কার শুকনো বোতলে ভরে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে গ্রিন টি টোনার।
ব্যবহার করার পদ্ধতি :
প্রথমে, একটি ভালো ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে আলতো করে মুছে নিন। এরপর, একটি কটন প্যাডে কয়েক ফোঁটা টোনার নিয়ে হালকা চাপে মুখে লাগান; খুব জোরে ঘষবেন না। যদি আপনার ত্বক খুব রুক্ষ ও শুষ্ক হয়, তবে আপনি সরাসরি মুখে টোনার স্প্রে করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যেন চোখের চারপাশে টোনার না লাগে। টোনার লাগানোর পর এটি শুকানোর জন্য কিছুক্ষণ সময় দিন। শুকিয়ে গেলে অবশ্যই একটি ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন।
সংরক্ষণ করার পদ্ধতি :
ঘরে তৈরি গ্রিন টি টোনার টি আপনি একবার বানিয়ে ৬-৭ দিনের জন্য ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করতে পারবেন।
কখন ব্যবহার করতে হবে ?
গ্রিন টি টোনার টি দিনে দুইবার ব্যবহার করা যাবে, একবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং আবার রাতে শোবার আগে।
আরও পড়ুন : মুখ থেকে ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়



