আয়নার দিকে তাকালেই মুখের ব্রণগুলো কি আপনার মেজাজ খারাপ করে দেয় ? ব্রণ একটি খুব সাধারণ সমস্যা; আর এটা শুধু আপনার একার না, কমবেশি সবাই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়। বাইরের ধুলোবালি, দূষণ, রেস্টুরেন্টের তৈলাক্ত খাবার এবং হরমোনের ওঠানামা আমাদের ত্বকের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, আর তখনই সেই বিরক্তিকর ব্রণগুলো দেখা দেয়।
কিন্তু এর সমাধান কি কেবল দামি দামি রাসায়নিক পণ্য ব্যবহারের মধ্যেই রয়েছে ? একেবারেই না ! প্রকৃতি থেকে পাওয়া সহজলভ্য কিছু উপাদান দিয়েই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। চলুন জেনে নিই, কীভাবে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে আপনি আপনার ত্বককে পরিষ্কার ও ব্রণমুক্ত করে তুলতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
- অর্ধেক চা চামচ দারুচিনির পাউডার
- ১ চা চামচ গোলাপ জল
- ১ চা চামচ মধু
১. দারুচিনির উপকারিতা :
দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ত্বকে দারুচিনি লাগালে সেই অংশে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা ব্রণের দাগ দ্রুত সারাতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
২. গোলাপ জলের উপকারিতা :
ব্রণ কমাতে গোলাপ জল একটি কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ব্রণ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও, গোলাপ জল ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং অতিরিক্ত তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
৩. মধুর উপকারিতা :
ব্রণ কমাতে মধু অত্যন্ত উপকারী। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এছাড়াও মধুতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ব্রণের লালচে ভাব কমাতে ও ব্রণের ক্ষত দ্রুত সারাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
তৈরি করার পদ্ধতি :
একটি কাচের বাটিতে অর্ধেক টেবিল চামচ দারুচিনির গুঁড়ো বা পাউডার নিয়ে তাতে ১ চা চামচ গোলাপ জল ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে।
দারুচিনির পাউডার না থাকলে একটুকরো দারুচিনি গোলাপ জলের সঙ্গে শিলনোড়ায় বেটে, তাতে মধু মিশিয়েও নেওয়া যাবে।
ব্যবহারের পদ্ধতি :
প্রথমে ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর দারুচিনির মিশ্রণটি ব্রণের স্থানে লাগিয়ে নিন। পুরো মুখে লাগানোর প্রয়োজন নেই। ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে নিন। সবশেষে আপনার পছন্দের অয়েল ফ্রি ময়শ্চারাইজার বা অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে নিন।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস্ :
ব্রণমুক্ত সুস্থ ত্বক পেতে এই ঘরোয়া প্রতিকারটি ব্যবহার করার পাশাপাশি আপনাকে কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে।
যেমন -
- রোজ দিনে দুবার ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে স্কিন কেয়ার করতে হবে।
- যদি মেকআপ বা ভারী সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, তবে প্রথমে অয়েল-বেজড (Oil Based) ক্লিনজার এবং পরে ওয়াটার-বেজড (Water Based) ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।
- রোদে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন।
- বালিশের কভার প্রতি ২-৩ দিন অন্তর পরিবর্তন করুন।
- মুখ মোছার জন্য আলাদা এবং পরিষ্কার নরম তোয়ালে ব্যবহার করুন।
- অতিরিক্ত তেল ও চিনি যুক্ত খাবার বর্জন করুন।
- খাবার তালিকায় সবুজ শাকসবজি এবং মৌসুমী ফল অন্তর্ভুক্ত করুন।
- প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন।
- দেরি করে ঘুমালে মানসিক চাপ বাড়ে এবং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ব্রণ হওয়ার একটি অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
- যতই ক্লান্ত থাকুন না কেন, রাতে মেকআপ না তুলে কখনোই ঘুমাবেন না।
- বারবার মুখে হাত দেবেন না। আমাদের হাতে প্রচুর জীবাণু থাকে, এবং বারবার মুখে বা ব্রণে হাত দিলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে এবং স্থায়ী দাগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে থাকা জীবাণু কথা বলার সময় গালে লাগতে পারে। তাই নিয়মিত স্ক্রিন পরিষ্কার রাখুন।
*** দারুচিনি তে উচ্চমাত্রায় সিনাম্যালডিহাইড নামক একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক যৌগ থাকে, যা ত্বকে হালকা জ্বালা জ্বালা ভাব সৃষ্টি করতে পারে, তবে এতে তেমন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি এর ব্যবহারে আপনার ত্বকে তীব্র জ্বালা অনুভূত হয় বা আপনার ত্বক খুব বেশি সংবেদনশীল (Sensitive) হয়, তবে দারুচিনির ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো। আর দারুচিনির পেষ্ট টি ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে একবার প্যাচ টেস্ট (Patch Test) অবশ্যই করে নেবেন।
আরও পড়ুন : চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল দূর করার আন্ডার আই মাস্ক



