বাইরে বেরোনোর অর্থ হল রোদের সংস্পর্শে আসা। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার পর সান ট্যান হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে, এই ট্যান দূর করা ভীষণ জরুরী। অন্যথায়, ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাবে, আর ত্বক কালচে ও মলিন দেখাবে।
রোদে ঘুরে ঘুরে আপনার ত্বকেও কি কালচে ছোপ পড়েছে ? কিভাবে এটি দূর করবেন ভেবে পাচ্ছেন না ? পার্লারে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করাতে চাচ্ছেন, কিন্তু খরচের কথা ভেবে পিছিয়ে পড়ছেন ?
তাহলে আপনার জন্য ঘরোয়া উপাদানে তৈরি ট্যান রিমুভাল ফেসপ্যাক হতে পারে একটি দারুন সমাধান, আর এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও নেই। আসুন জেনে নেওয়া যাক, কিভাবে এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে হবে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
- ১ টেবিল চামচ বেসন
- ১ টেবিল চামচ কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো
- ১ চা চামচ কস্তুরি হলুদ গুঁড়ো
- ২-৩ টেবিল চামচ টক দই
- ১/২ চা চামচ লেবুর রস
১. বেসনের উপকারিতা :
বেসন ত্বক পরিষ্কার করার জন্য খুবই ভালো একটি উপাদান। এটি প্রাকৃতিক স্কিন ক্লিনজার হিসেবেও বিবেচিত হয়, যা ত্বকের ওপরের ময়লা ও অতিরিক্ত তেল দূর করে ত্বককে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত বেসনের ব্যবহারে ত্বকের কালচেভাব দূর হয় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
২. কমলালেবুর খোসার উপকারিতা :
সান ট্যান দূর করার জন্য কমলা লেবুর খোসার গুঁড়ো খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা রোদে পোড়া কালো দাগ এবং হাইপারপিগমেন্টেশন হালকা করতে সাহায্য করে। এতে আন্টি অক্সিডেন্ট এবং আন্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
এছাড়াও, কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো ত্বকের উপরে মৃত কোষগুলিকে আলতোভাবে সরিয়ে দিয়ে ত্বকের নতুন কোষগুলিকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে, যার ফলে ত্বক আগের তুলনায় আরো বেশি পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
৩. কস্তুরি হলুদের উপকারিতা :
রোদে পোড়া দাগ বা সান ট্যান দূর করতে কস্তুরি হলুদের কোন তুলনা হয় না। এটি মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে ট্যান দূর করতে সাহায্য করে।
এছাড়াও ত্বকের উপরের দাগছোপ পিগমেন্টেশন হালকা করতেও কস্তুরি হলুদ যথেষ্ট কার্যকরী। এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও আন্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকে সানবার্ন বা লালচে ভাব হলে তা প্রশমিত করতে সাহায্য করে এবং যেকোনো সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
সাধারণ হলুদের মতো এটি ত্বকে হলদেটে দাগ ফেলে না, তাই এটি ব্যবহারে কোন অসুবিধে নেই। দীর্ঘদিন কস্তুরি হলুদ ব্যবহারে ত্বকের কালচেভাব, ট্যানিং, দাগছোপ দূর হয় এবং ত্বকের রং আরো পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
৪. টক দইয়ের উপকারিতা :
টক দই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী, তেমনই উপকারী ত্বকের জন্যও। এতে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের উপরের মৃত কোষ সরিয়ে কালচে ভাব দূর করতে সাহায্য করে।
টক দই ত্বক ঠান্ডা রাখে, যার ফলে অতিরিক্ত রোদের কারণে ত্বকে যে লালচে ভাব দেখা দেয় বা জ্বালা অনুভব হয় তা কিছুটা কম হয়। দই এ উপস্থিত জিঙ্ক এবং প্রোবায়োটিক ত্বকে পুষ্টি জোগায় এবং ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।
৫. লেবুর উপকারিতা :
লেবুর রস সান ট্যান দূর করার জন্য একটি দারুণ প্রাকৃতিক উপাদান। এতে উপস্থিত ভিটামিন সি ও সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের যে কোন দাগছোপ, রোদে পোড়া কালচে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। এটি একটি প্রাকৃতিক ব্লিচের মতো কাজ করে, যা ত্বকের উপরের মৃত কোষ সরিয়ে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে, যার ফলে ত্বকের জেল্লা দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
*** যদি আপনার ত্বক সংবেদনশীল (Sensitive) হয়, সেক্ষেত্রে লেবুর রস ব্যবহার করা যাবে না।
ফেসপ্যাক তৈরির পদ্ধতি :
একটি কাচের বাটিতে বেসন, কমলার খোসা গুঁড়ো, কস্তুরি হলুদ গুঁড়ো, টক দই আর লেবুর রস নিয়ে ভালোমতো মিশিয়ে নিতে হবে। যাতে একটি থকথকে পেস্ট তৈরি হয়ে যায়। যদি মিশ্রণটি খুব পাতলা হয়ে যায়, তবে অল্প বেসন মিশিয়ে নিতে পারবেন। আর যদি খুব ঘন হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আরও এক চামচ টক দই মিশিয়ে নেবেন।
ব্যবহারের নিয়ম :
তৈরি করা ফেস প্যাকটি পুরো মুখে ও গলায় লাগিয়ে নেবেন। আপনি চাইলে হাত পায়েও লাগাতে পারবেন। লাগিয়ে নেবার পর ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করবেন। ১৫-২০ মিনিটের বেশি কিন্তু রাখা যাবে না। যখন প্যাকটি একটু শুকিয়ে আসবে, তখন জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেবেন। তারপর আপনার পছন্দের যে কোনো ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নেবেন।
সপ্তাহে কতদিন ব্যবহার করা যাবে :
সপ্তাহে ১-২ দিন এই ফেসপ্যাক টি ব্যবহার করা যেতে পারে।





