চুল পড়ে মাথার টাক দেখা যাচ্ছে ? চুল ঠিকমত বাড়ছে না ? অনেক কিছু ব্যবহার করার পরেও কোন ফল পাচ্ছেন না ? চিন্তা করবেন না, এই সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কারি পাতার হেয়ার টোনার হতে পারে একটি দুর্দান্ত সমাধান। এটি ব্যবহার করাও সহজ, এতে আপনার চুল চিটচিটে ও হবে না এবং সবচেয়ে ভালো দিক হলো আপনি নিজেই এটি তৈরি করতে পারবেন। কিভাবে হেয়ার টোনার তৈরি করতে হবে আসুন জেনে নেওয়া যাক।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
- এক মুঠো কারি পাতা
- ২ টেবিল চামচ মেথি বীজ
- ১ টি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল
- ২-৩ কাপ জল
১. কারি পাতার উপকারিতা :
চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কারি পাতার অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটি প্রোটিন, ভিটামিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ, যা মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায় এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। ফলস্বরূপ, চুল পড়া অনেকাংশেই কমে যায়, পাতলা চুল ধীরে ধীরে ঘন হতে শুরু করে, সেই সাথে চুলের বৃদ্ধি ও দ্রুত হয়। শুধু তাই নয়, কারি পাতায় উপস্থিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য খুশকির সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে।
২. মেথি বীজের উপকারিতা :
মেথি বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, আয়রন এবং নিকোটিনিক অ্যাসিড। যা চুলের গোড়া মজবুত করতে, চুল পড়া কমাতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও এতে লেসিথিন নামক এক ধরনের পদার্থ রয়েছে যা চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখে, যার ফলে চুল হয়ে ওঠে নরম মসৃণ ও ঝলমলে।
৩. ভিটামিন-ই এর উপকারিতা :
ভিটামিন ই চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য চুল পড়া কমাতে এবং চুলের রুক্ষতা দূর করে তাকে নরম মসৃণ ও ঝলমলে করে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়াও ভিটামিন ই মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, যার ফলে চুল হয়ে ওঠে লম্বা ঘন ও মজবুত।
তৈরি করার পদ্ধতি :
প্রথমে মুঠো ভর্তি কারি পাতা গাছ থেকে তুলে এনে সেগুলি জল দিয়ে ২-৩ বার পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর একটি প্যানে কারি পাতা ও মেথি বীজ নিয়ে তাতে জল ঢেলে ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। জলের পরিমাণ অর্ধেক হয়ে এলে ওভেন বন্ধ করে দিতে হবে। তারপর, সেটি ঠান্ডা করে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিতে হবে। এবার, একটি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল ফুটো করে তার ভেতরের অয়েল বোতলে ভরে ছিপি আটকে ঝাঁকিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে কারি পাতার হেয়ার টোনার।
ব্যবহারের নিয়ম :
ব্যবহারের আগে টোনার টি একটু ঝাঁকিয়ে নিতে হবে। তারপর পুরো মাথার তালুতে স্প্রে করে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো ভাবে ঘষে নিতে হবে, যাতে টোনার টি প্রতিটি চুলের গোড়ায় ভালোমতো পৌঁছে যায়।
এরপর প্রায় ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।
সংরক্ষণের পদ্ধতি :
এই হেয়ার টোনার টি রেফ্রিজারেটরে রেখে প্রায় ১০-১২ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।
সপ্তাহে কতদিন ব্যবহার করা যাবে :
সপ্তাহে ২-৩ দিন এই টোনার টির ব্যবহার করা যেতে পারে।



