বাঙালির রান্নাঘরে আলু থাকবে না, তা আবার হয় নাকি ! নিরামিষ খাবার থেকে শুরু করে বিরিয়ানি সবেতেই আলুর আধিপত্য। কিন্তু জানেন কি ? শুধুমাএ রান্নাতেই না রূপচর্চায় ও আলুর যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। ঘরোয়া উপায়ে আলুর তৈরি ফেসপ্যাক দিয়ে আপনি কিন্তু আপনার ত্বকে পেতে পারেন পার্লার ট্রিটমেন্ট এর মত গ্লো, তাও আবার কোনরকম খরচ না করেই। কিভাবে ? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
- ১ টি মাঝারি আকারের আলু
- ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো
- ১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির পাউডার
- ১/২ চা চামচ কস্তুরি হলুদ গুঁড়ো
- ১-২ টেবিল চামচ গোলাপ জল
১. আলুর উপকারিতা :
ত্বকের গ্লো বাড়াতে আলুর অনেক উপকারিতা রয়েছে। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা ত্বকের উপরের কালচেভাব দূর করে উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও, আলুতে থাকা অ্যাজেলিক অ্যাসিড মুখের কালো দাগ ও হাইপারপিগমেন্টেশন হালকা করে ত্বকের প্রাকৃতিক গ্লো ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
২. চালের গুঁড়োর উপকারিতা :
চালের গুঁড়ো প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের ওপরের মরা চামড়া সরিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন বি ও ভিটামিন ই, যা চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। ফলস্বরূপ, ত্বকের তারুণ্যতা বজায় থাকে। এছাড়াও চালের গুঁড়ো ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা কম করতে সাহায্য করে।
৩. মুলতানি মাটির উপকারিতা :
মুলতানি মাটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এটি ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কম করতে সাহায্য করে। যার ফলে ব্রণ, ফুসকুড়ি এবং ব্ল্যাকহেডস এইসব সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। মুলতানি মাটির নিয়মিত ব্যবহার ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল এবং ময়লা দূর করে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।
৪. কস্তুরি হলুদের উপকারিতা :
কস্তুরি হলুদের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ব্রণ, ব্রণের দাগ এবং ত্বকের কালচে ছোপ, সানট্যান দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়াও কস্তুরি হলুদ ত্বকের উপরের বলিরেখা কম করে ত্বকের তারুণ্যতা বজায় রাখে।
৫. গোলাপ জলের উপকারিতা :
গোলাপ জল ত্বকের উপরিভাগ থেকে ময়লা দূর করে ত্বককে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ত্বককে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও গোলাপ জল ত্বকের pH ভারসাম্য বজায় রাখে ও ত্বককে করে তোলে কোমল ও উজ্জ্বল।
তৈরি করার পদ্ধতি :
প্রথমে একটি আলু পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর আলুর খোসা ছাড়িয়ে একটি গ্রেটারে ঘষে কুচি কুচি করে নিয়ে, ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে আলুর রস বের করে নিন। এবার আলুর রসে এক এক করে চালের গুঁড়ো, মুলতানি মাটি, কস্তুরী হলুদ গুঁড়ো ও গোলাপজল দিয়ে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে আলু ফেসপ্যাক।
ব্যবহারের পদ্ধতি :
প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তারপর তৈরি আলুর ফেসপ্যাকটি আপনার সারা মুখে এবং গলায় লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। ফেসপ্যাকটি একটু শুকিয়ে গেলে, জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ ধোয়ার পর, আপনার পছন্দের যেকোনো ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না।
সপ্তাহে কতদিন ব্যবহার করতে হবে :
ভালো পরিণাম পেতে, এই ফেসপ্যাক টি সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
*** ফেসপ্যাক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ গুলির মধ্যে যদি কোন একটি বা দুটিতে আপনার অ্যালার্জি বা অন্য কোন সমস্যা থেকে থাকে, সেই ক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট উপকরণটির ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন।





