তৈলাক্ত ত্বক মানে হাজারো সমস্যা। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন সঠিক রূপচর্চা। আর এর জন্য রাসায়নিক প্রসাধনীর চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদান বেশি কার্যকর। আসুন জেনে নেওয়া যাক প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করার কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
- ১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির পাউডার
- ১ টেবিল চামচ নিম পাউডার
- ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল
- ২-৩ টেবিল চামচ গোলাপ জল
১. মুলতানি মাটির উপকারিতা :
মুলতানি মাটি একটি প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের গভীর থেকে ময়লা এবং অতিরিক্ত তেল দূর করে ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
এটি ব্রণের সমস্যা কমাতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
২. নিমের উপকারিতা :
নিম পাতা বা নিম পাউডার-এ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে, যা ত্বকের জন্য দারুণ উপকারী।
এটি ব্রণ কমাতে ও ত্বকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। নিম ত্বককে ডিটক্সিফাই করে, কালো দাগ কমায় এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে ত্বককে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
৩. অ্যালোভেরা জেলের উপকারিতা :
ত্বকের ধরন আপনার যেমনই হোক না কেন অ্যালোভেরা জেল কিন্তু সব ধরনের ত্বকের জন্যই কার্যকরী।
অ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি এবং আন্টিব্যাকটেরিয়াল গুন যা ত্বকের লালচে ভাব, ব্রণ ও অন্যান্য ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
অ্যালোভেরা ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বককে নরম ও মসৃণ করে তোলে। এছাড়াও, এতে থাকা বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল ফ্রি মেডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে ত্বককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, কোলাজেন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে ত্বক দেখায় সতেজ ও প্রাণবন্ত।
৪. গোলাপ জলের উপকারিতা :
গোলাপ জলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে ও ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
এছাড়াও, গোলাপ জল ত্বকের pH ভারসাম্য বজায় রাখে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে।
তৈরি করার পদ্ধতি :
একটি কাঁচের বাটিতে মুলতানি মাটির পাউডার, নিম পাউডার, অ্যালোভেরা জেল ও গোলাপজল নিয়ে ভালো মতো মিশিয়ে নিতে হবে।
যদি মিশ্রণটি বেশি ঘন হয়ে যায় সেক্ষেত্রে আরও ১-২ টেবিল চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
সব উপকরণগুলো মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ব্রণ দূর করার ফেসপ্যাক।
ব্যবহারের পদ্ধতি :
একটি ব্রাশ বা আঙ্গুলের সাহায্যে তৈরি করা ফেসপ্যাক টি পুরো মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।
এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। মুখ ধোয়ার পর যেকোনো হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।
সপ্তাহে কতদিন ব্যবহার করা যাবে :
- যদি ত্বক খুব বেশি তৈলাক্ত হয়, তবে এই ফেস প্যাকটি সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করা যাবে।
- যদি ত্বক খুব বেশি তৈলাক্ত না হয়, তবে সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
- যদি ত্বকের তৈলাক্ততা মাঝারি ধরণের হয়, সেক্ষেত্রেও সপ্তাহে ২ দিন এই ফেস প্যাকটি ব্যবহার করা যাবে।




