ত্বকের যত্নের জন্য ময়েশ্চারাইজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয়, তাহলে সঠিক ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন করা বেশ কঠিন হতে পারে। দোকান থেকে কেনা ময়েশ্চারাইজারে অতিরিক্ত তেল বা রাসায়নিক থাকতে পারে, যা আপনার ত্বককে আরও তৈলাক্ত এবং ব্রণ-প্রবণ করে তুলতে পারে।
তাহলে আপনি কি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন না ? অবশ্যই করবেন। আপনার প্রয়োজন অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার, যা আপনি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে নিজেই তৈরি করতে পারবেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক এটি কীভাবে তৈরি করবেন এবং এর উপকারিতা কী।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
- ৩ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল
- ১-২ চা চামচ গ্লিসারিন
- ১-২ টেবিল চামচ গোলাপ জল
- ৪-৫ ফোটা টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল ( ঐচ্ছিক )
১. অ্যালোভেরা জেল-এর উপকারিতা :
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা জেল অত্যন্ত উপকারী। এটি খুব বেশি তেলতেলে হয়না, তবে ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে। যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে নরম ও মসৃণ। অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক অ্যাসট্রিনজেন্ট হিসেবেও কাজ করে, যা ত্বকের ওপরের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।এতে উপস্থিত অ্যন্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ত্বকের লালচে ভাব, ব্রণ ও ফুসকুড়ির মত সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে।
২. গ্লিসারিনের উপকারিতা :
গ্লিসারিন একটি খুব ভালো হিউমেক্ট্যান্ট, যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে রুক্ষ শুষ্ক ত্বককে করে তোলে নরম আর মোলায়েম। এছাড়াও গ্লিসারিন সিবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে ত্বককে অতিরিক্ত তেলতেলে হওয়া থেকে রক্ষা করে।
৩. গোলাপ জলের উপকারিতা :
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য গোলাপ জল খুবই উপকারী। কারণ এটি ত্বকের রোমছিদ্রগুলি সংকুচিত করতে এবং সিবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ব্রণ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও গোলাপ জল ত্বকের pH ভারসাম্য বজায় রাখে ও ত্বকের রং পরিষ্কার করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
৪. টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল-এর উপকারিতা :
টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অতিরিক্ত সিবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ব্রণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। যার ফলে, ত্বক হয়ে ওঠে ব্রণমুক্ত পরিষ্কার ও উজ্জ্বল।
তৈরি করার পদ্ধতি :
প্রথমে একটি কাচের বাটিতে পরিমাণ মতো অ্যালোভেরা জেল, গ্লিসারিন ও গোলাপ জল নিয়ে ভালোমত মিশিয়ে ক্রিম এর মত বানিয়ে নিতে হবে। এরপর এতে ৪-৫ ফোটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার।
সংরক্ষণের পদ্ধতি :
একটি পরিষ্কার শুকনো কাচের জার বা কন্টেইনার এ তৈরি করা ময়শ্চারাইজারটি ভরে ভালো করে কন্টেইনার-এর মুখ আটকে দিতে হবে। এবার এটিকে রেফ্রিজারেটরে রেখে প্রায় ১০ - ২০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।
ব্যবহারের নিয়ম :
প্রতিদিন দিনে দুবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে ঘুমোতে যাবার আগে আপনার পছন্দের যে কোনো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে তারপর এই অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজারটি লাগাতে হবে।




