গোলাপের সৌন্দর্যে তো সবাই মুগ্ধ; কিন্তু, গোলাপ শুধু নিজেই সুন্দর নয়, আপনাকে সুন্দর করে তুলতেও তার অবদান অনেক। যুগ যুগ ধরে গোলাপের পাপড়ি, গোলাপ জল রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে ও অনেক প্রসাধনী সামগ্রী তে গোলাপের ব্যবহার হচ্ছে। আপনিও কি আপনার ত্বকে গোলাপের মতো গ্লো পেতে চান ? তাহলে দেরি না করে চটপট বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন গোলাপের ফেস প্যাক। কিভাবে এই ফেস প্যাক তৈরি করতে হবে আসুন জেনে নেওয়া যাক।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
- ২ টেবিল চামচ গোলাপের পাপড়ির পাউডার
- ১ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ো
- ২ টেবিল চামচ টক দই
- ১ টেবিল চামচ মধু
১. গোলাপের পাপড়ির পাউডার-এর উপকারিতা :
গোলাপের পাপড়িতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা ত্বকের ওপরের কালচে ভাব দূর করে ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও গোলাপে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য যা ত্বকের লালচে ভাব, ব্রণ ও ফুসকুড়ির মতো সমস্যা থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করে। গোলাপ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বকের বলিরেখা কম করে ত্বকের তারণ্যতা ধরে রাখে। যার ফলে, ত্বক আরও তরুণ, উজ্জ্বল ও সতেজ দেখায়।
২. চন্দনের উপকারিতা :
চন্দনে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ব্রণ, ফুসকুড়ি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ত্বককে দ্রুত সরিয়ে তোলে। চন্দন ত্বককে শীতলতা প্রদান করে, যা অতিরিক্ত রোদের তাপে হওয়া ত্বকের জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাব কমাতে যথেষ্ট কার্যকরী। চন্দন গুঁড়ো ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সান ট্যান, পিগমেন্টেশন, ব্রণের কালো দাগ ধীরে ধীরে হালকা করে ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে।
৩. টক দই-এর উপকারিতা :
টক দই ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এতে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের ওপর থেকে মৃত কোষ সরিয়ে ত্বককে নরম মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে। টক দই-এ উপস্থিত ময়শ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে, ফলে ত্বক হয়ে ওঠে টানটান, নরম আর তুলতুলে।
৪. মধুর উপকারিতা :
মধু একটি প্রাকৃতিক হিউমেক্টেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বককে নরম ও মসৃণ করে তোলে। মধুতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য, যা ব্রণের সমস্যা দুর করে ত্বককে পরিষ্কার করে তোলে। এছাড়া, মধুতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বলিরেখা কমিয়ে তরণ্যতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ফেস প্যাক তৈরির পদ্ধতি :
একটি কাচের বাটিতে ২ টেবিল চামচ গোলাপের পাপড়ির পাউডার, ১ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ টক দই ও ১ টেবিল চামচ মধু দিয়ে মিশিয়ে নিন। মেশাতে মেশাতে যখন মিশ্রণ টি থকথকে হয়ে আসবে তখন বুঝবেন ফেস প্যাকটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
ব্যবহারের নিয়ম :
প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এবার ফেস প্যাক টি ব্রাশ বা আঙুলের ডগায় করে পুরো মুখে ও গলায় সমানভাবে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। সবশেষে, পরিষ্কার মুখে আপনার পছন্দের যে কোনো ময়েশ্চারাইজার বা ফেস ক্রিম লাগিয়ে নিন।
ফেস প্যাক টি সপ্তাহে কতদিন ব্যবহার করতে হবে ?
সপ্তাহে ২-৩ দিন এই ফেস প্যাক-এর ব্যবহার করতে পারবেন।
আরও পড়ুন : ফর্সা উজ্জ্বল ত্বকের জন্য চারকোল বডি স্ক্রাব




